জীবন মানেই পরিবর্তন। মানুষের মন পরিবর্তন হয়, আচরণ বদলে যায়। মার্কেটিং-এর পুরো অংশ জুড়েই মানুষের মন। বিজ্ঞান বলে, মানুষের কিছু কেনার সিদ্ধান্তের ৮০%-ই আসে মন থেকে। এমনকি ব্রেইনের লজিক্যাল ডিসিশনকেও চাপিয়ে যায়।
একজন কাস্টমারকে কীভাবে কিছু কিনতে উৎসাহিত করা যাবে—সেটাই শুধু মার্কেটিং নয়, বরং কেনার জন্য একটি সঠিক কারণকে তুলে ধরার নামই হলো মার্কেটিং। এক্ষেত্রে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে মানব সমাজ বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত।
শিক্ষা, সংস্কৃতি, আর্থিক অবস্থা, ধর্ম, পরিবার, এমনকি একজন বন্ধু পর্যন্ত একজন মানুষের কেনার উপর প্রভাব ফেলে। সুতরাং, নিয়মতান্ত্রিক একটি পদ্ধতি ছাড়া একজন কাস্টমারের মনের গতিপথ (mind-track) বোঝা সত্যিই কঠিন।
হাজার কোটি মানুষের হাজার কোটি চিন্তা, সিদ্ধান্ত, আইকিউ লেভেল, সামাজিক শ্রেণি, মানসিকতা, অর্থনৈতিক অবস্থা ট্র্যাক করা সম্ভব নয়, কিন্তু মানুষের একটি মৌলিক সমস্যা ট্র্যাক করা সম্ভব। মানুষের প্রাথমিক এবং সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য একটি সমস্যা হলো—
"ভালো থাকা"।
এখানে "ভালো থাকার" যে লক্ষ্য, সেটা বোঝানো হচ্ছে না, বরং "ভালো থাকার জন্য" মানুষের যে নিরন্তর চেষ্টা—সেটাকেই বোঝানো হচ্ছে।
মানুষের এই "ভালো থাকা" আবার বহুরকম।
আশার বিষয় হলো, আমরা যখন একটি নির্দিষ্ট প্রোডাক্টের মার্কেটিং করব, তখন মানুষের এই বেসিক সমস্যার সমাধানে আমাদের প্রোডাক্টটি ঠিক কোথায় প্রভাব ফেলছে—সেটা বুঝতে পারলেই সফল মার্কেটিং-এর একটি রূপরেখা পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি, চাহিদা ইত্যাদি বিবেচনায়, সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়ার যে প্রক্রিয়া এবং আলোচনা—তাকেই মার্কেটিং বলা হয়।
মার্কেটিং একাধারে একটি পাঠ্য বিষয়, একটি পেশা, এবং একটি সমাধানের প্রক্রিয়া।
এই কোর্সটিতে আমরা এই বিশাল জ্ঞানের সাগরের একটি মাত্র পদ্ধতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করবো।আপনাকে এই মহান যাত্রায় স্বাগতম।
এই আলোচনায় যেমন থাকবে বিভিন্ন কৌশলের বিশ্লেষণ, তেমনই থাকবে বাস্তব প্রমাণ। মনে রাখা জরুরি—মার্কেটিং একটি ডায়নামিক বিষয়। আজকে যা সত্যি, কাল তা বদলে যেতে পারে। কারণ, আজ যা অনেকেই কল্পনা করতে পারছে না, তা-ই ভবিষ্যৎ।
শুচিপত্র দেখুন